Notice Board

 

Date
Notice Title
Download Link
১১/১১/২০১৯
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি-২০২০ (ইংলিশ ভার্সন)
১১/১১/২০১৯
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি-২০২০ (বাংলা মাধ্যম)


প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস


SHKSC-01

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ ঢাকা শহর সংলগ্ন ডেমরার একটি শিক্ষাঙ্গন। বাংলাদেশের মানচিত্রে এই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হয়তো একটি বিন্দুর মত। হোক বিন্দু, বিন্দুও সিন্ধু হয় যদি তার থাকে গতি। একটি মহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি শিক্ষণীয়  ইতিহাস, তা প্রভাবিত করে প্রতিবেশ, সমাজ, স্বদেশ, নির্মান করে সুস্থ, শৃঙ্খল সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে কোন বিশেষ স্থানের   পরিবেশ। তার সদম্ভ পথচলা অনুপ্রাণিত করে সে অঞ্চলের সচেতন শ্রেণিকে হীরকোজ্জ্বল স্বপ্ন দেখতে। তাই কোন বড় মাপের বিদ্যাঙ্গনের ভৌগোলিক মূল্য নয়, গ্রাহ্য তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য। কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস মানে কোন সমাজের হয়ে ওঠার ইতিহাস, তারুণ্য ও বুদ্ধি প্রকৌশল সৃষ্টির ইতিহাস।

দুইযুগ পেরোনো সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ সৃষ্টি,প্রজ্ঞায় বেশ প্রাগসর । ডেমরা অঞ্চল দীর্ঘকাল  ভাগ্যবিড়ম্বিত ছিল। তবে অর্থ প্রাচুর্যে আজ সে সোনায় সোহাগা হয়েছে এমনও নয়। কিন্ত শিক্ষা সংস্কৃতির পরিবর্তন  যে এসেছে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। স্বাধীনতাউত্তরকালে ডেমরার এটাই সবেচেয় বড় প্রাপ্তি। শিক্ষাগত পরিবর্তনের মূল ধারায় বর্তমান প্রতিষ্ঠানেও সক্রিয় অবস্থান ছিলো। ডেমরা সম্পর্কে জনশ্রুতি - ডেমরা অখ্যাত, অনুন্নত। কল কারখানার শ্রমিকদের বসবাস এখানে।প্রত্যাশা ও প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার অভাব দূর করার জন্য গুচ্ছখানেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও ডেমরাবাসী হতাশামুক্ত হয়নি। তারই ফলশ্রুতিতে সামসুল হক খান জুনিয়র হাই স্কুলের গোড়াপত্তন হয়। মাতুয়াইলের বিশিষ্ট বিদ্যোৎসাহী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব সামসুল হক খান এই অক্ষয় অবদান রাখেন। সমাজকে বদলে দেবার বাসনা যার তীব্র এমন অবদান তার পক্ষেই রাখা সম্ভব। কাদা পানির ধান খেতে ১৯৮৯ সালে ছোট একটি টিনশেডের ঘরে ডজন খানেক শিক্ষক হাতে নিয়ে সামসুল হক খান জুনিয়র হাই স্কুল বিদ্যাশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করে। এই স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো অনধিক একশত। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে বাইশ বছর মানে দুইযুগ আগের এই এলাকার জনজীবনের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা। অর্থাৎ একটি অসচ্ছল লোকালয়ে এই স্কুলটি আত্ম প্রকাশ কের। আঁতুড় ঘরেই যার জীবনাবসানের সম্ভাবনা ছিলো নিরানব্বই ভাগ। কিন্ত সে মরেনি।

সে বেঁচে আছে, তরুণ তাগড়া জোয়ান হয়ে উঠেছে। যাই হোক, প্রায় অবৈতনিক একটি বিদ্যালয় শিক্ষক বৃন্দ ও পৃষ্ঠপোষকদের হাত ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ার দিকে। কী করে হল সেটাই কথা। আমাদের দেশে যে কোন নতুন প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভিভাবকরা নতুন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খুবই হতাশা বোধ করে এবং এক ধরনের অনিশ্চয়তা বোধে তাড়িত হয়ে ছেলে মেয়েদেরেক নতুন প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চান না। এ কথাও সত্য যে নতুন প্রতিষ্ঠানের হাজারো সীমাবদ্ধতা থাকে। অনেক শর্ত সাপেক্ষে, অনেক মুচলেকা দিয়ে নতুন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে আনতে হয়। আর তখন সব দায় দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের উপর। উল্লেখিত সবগুলো সমস্যা সুচনালগ্নে সামসুল হক খান জুনিয়র হাই স্কুলকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। তখন না ছিলো পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না ছিলো বেতন। এমন দুর্দিনে প্রতিষ্ঠানের হাল শক্তভাবে ধরে রেখেছেন শিক্ষকবৃন্দ। আশা একটিই একদিন এ প্রতিষ্ঠানের সুদিন আসবেই। এভাবেই পার হয় ১৯৮৯ - ১৯৯৩ পর্যন্ত পাঁচ বছর। এতদিন এটি মৌখিক ভাবে জুনিয়র হাইস্কুল ছিলো। ১৯৯৩ সালে সরকারি স্বীকৃতির মাধ্যমে কার্যত জুনিয়র হাই স্কুলে রূপ লাভ করে। সেই সাথে নিরাশার মেঘও অনেকটা কেটে যায়। ১৯৯৩ সাল থেকেই নবম শ্রেণিতে ভর্তি আরম্ভ হয়। স্কুলের গতিবিধি, শিক্ষকদের দৃঢ়তা ও একনিষ্ঠতা দেখে কিছু ছাত্রছাত্রী বাইরে থেকে এসেও এখানে ভর্তি হয়। জুনিয়র হাই স্কুল পূর্ণোদ্যমে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুল হয়ে ওঠে।

ডেমরার অভিভাবকেরা এবার সামসুল হক খান উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে ফিরে তাকাতে শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে এই স্কুল প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ন হয়। একই বছর এমপিওভুক্ত হয় সামসুল হক খান উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এমপিও প্রাপ্তির পর সামসুল হক খান উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে আর হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়নি। এরপর থেকে পরিকল্পনা ও পরিমার্জনার অধ্যায় সূচিত হয় এখানে। একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান রূপায়নে ব্রতী হয়ে পড়ে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও পৃষ্ঠপোষকেরা।

১৯৯৫ পরবর্তী সময় থেকে সামসুল হক খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন শুরু হয়। প্রাথমিক, জুনিয়র, এসএসসি পর্যায়ে পঠন পাঠনে নানা কারুকাজ প্রবর্তিত হতে থাকে। নান রকম শৃঙ্খলা বিধানও করা হয়। প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পুনর্বিন্যাস হয়। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ক্লাশের সময়কে প্রভাতী ও দিবা দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য শিফট প্রচলিত হয়। শিক্ষকবৃন্দের দায়িত্বেবাধ, একনিষ্ঠতা, শিক্ষার্থীর পাঠগ্রহণ সুনিশ্চিত ও সফল করার লক্ষ্যে ইনচার্জ শ্রেণিশিক্ষক, বিষয় ও বিভাগীয় দায়িত্বের ভিন্ন ভিন্ন দপ্তর তৈরি করা হয়। করা হয় শ্রেণিতে শ্রেণিতে মেধানুসারে সেকশন বিভাগ। কুইজ, মডেল টেস্টসহ রকমারি পরীক্ষা প্রবর্তিত হয় যেগুলো সেমিষ্টার ও প্রমোশন টেস্ট এর অতিরিক্ত। এই পদক্ষেপগুলো ছিলো যথেষ্ট পরিকল্পিত।

পরিকল্পনা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান সফলতার মুখ দেখেনা। এমপিও ভুক্তির পর থেকে এই প্রতিষ্ঠান সতর্কতা ও আন্তরিকতার সাথে অগ্রসর হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে সামসুল হক খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিন্নতা এখানে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সকল অংশের সহযোগিতা প্রয়েোজনানুসারে কাজে লাগিয়েছে। অধ্যয়ন একটি শিল্প, সুকুমার মনোবৃত্তির সাথে এর সম্পর্ক। তবে এটি একক শিল্প নয়, যৌথ শিল্প। পাঠ গ্রহণকে সুদৃঢ়, সফল করতে কেবল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকই যথেষ্ট নয়, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পরিচালনা পর্ষদের দৃষ্টিভঙ্গি, অভিভাবকের সচেতনতা, শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিবেশ  এ সবেরও ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠান এ কথা বুঝেছে এবং তা কাজে লাগাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। পাঁচ সাত বছেরর অধিক সময় লেগেছে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি সুদৃঢ় স্থানে নিয়ে আসতে। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিখুঁত চিন্তার ফল। একে গবেষণা বললে অত্যুক্তি করা হবে না। এই দীর্ঘ কার্যক্রম অটুটভাবে অব্যাহত রাখা কতখানি সময়, শ্রম, ধৈর্য ও অভিজ্ঞতা নির্ভর তা সচেতন ব্যক্তিরা অনুধাবন করতে পারেন..।

 

 

 বিস্তারিত

  • সভাপতি

    আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান মোল্লা শ্যামল

    সভাপতি

    বিস্তারিত

  • প্রিন্সিপাল

    মোঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লা

    বিস্তারিত

  • প্রতিষ্ঠাতা

    আলহাজ্ব মোঃ সামসুল হক খান





  • Youtube