প্রিন্সিপালের বানী

sir

সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেটা আমাদের সাধনার ফল। সে সাধনায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহন আছে। এলাকাবাসীর সেবার মনোভাবের জন্য এই প্রতিষ্ঠান গর্বিত। একথা এলাকার সবাই অবগত আছেন, সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ বার বার কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে সারাদেশে নিজের একটি বিশেষ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই অর্জন এলাকা ও এলাকার বাইরেও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে । তারা ছেলে মেয়েদের এখানে পড়াশোনা করাতে যথেষ্ট আগ্রহী। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ক্ষেত্রে সফলতার জন্যই এই চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। বারংবার প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য শুধু অভিভাকদের মধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেনি, জাতীয় পর্যায়েও সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ বেশ কয়েকবার সম্মাননা লাভ করেছে। সবকিছুর মূলে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের অটুট শৃঙ্খলা, শিক্ষকদের একাগ্রচিত্ততা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন। শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নয়ন ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত সৃষ্টিতে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ অঙ্গীকারাবদ্ধ। শিক্ষার্থীর জীবনকে সম্ভাবনাময় করে তোলাই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমাদের চেষ্টা ও পরিকল্পনা বিরামহীন। আমাদের সফলতাও এসেছে। প্রতিষ্ঠান প্রতিবার প্রতিটি পর্যায়ের পরীক্ষায় সাড়াজাগানো ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। 

সাফল্যের ধারায় ২০১৪ সালে এবং ২০১৫ সালে আমাদের অর্জন অসাধারণ। ২০১৪ সালে JSC  তে শতভাগ পাশ ও ৭১৫ A+ সহ বাংলাদেশের মধ্যে ৪র্থ স্থান অধিকার করি এবং একই বছর PEC তে শতভাগ পাশ ও ৭৮৫ A+ পেয়ে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করি। আমাদের সর্বাধিক সাফল্য SSC পর্যায়ে। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ঢাকা বোর্ড তথা সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সেরাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে এ প্রতিষ্ঠান। SSC তে দেশ সেরা হওয়ার আনন্দ উৎসব উদযাপন করতে এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। ২০১২ সালে SSC তে দ্বিতীয় সেরা হলে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর প্রথম শুভাগমন ঘটে। তাঁর মত বরেণ্য রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বের শুভাগমনে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ ও এলাকাবাসী ধন্য হয়েছে। 

এ প্রতিষ্ঠানে প্রবর্তিত পাঠদান পদ্ধতি যথাসম্ভব আধুনিক। আমরা বিশ্বাস করি প্রতিযোগিতার যুগে টিকে থাকতে হলে যথেষ্ট কৌশুলী হতে হয়। আমরা তা হতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কঠিন বাস্তবতার লোকালয় ডেমরার মত জায়গায় অবস্থান করে এ প্রতিষ্ঠান শীর্ষ স্থানীয়, বিষয়টি অবাক করার মত নয় কি? সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের সাফল্যের আরেকটি নিদর্শন কলেজ শাখা। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কলেজ শাখা HSC তে ঢাকা বোর্ডে সেরাদের তালিকায় অবস্থান করে আসছে। ২০১৪ সালে HSC তে  ঢাকা বোর্ডে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জিত হয়েছে এবং ২০১৫ সালেও এই পর্যায়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের স্বনামখ্যাত পাবলিক,  স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী মেডিকেল কলেজে এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরা  সগৌরবে অধ্যয়নরত আছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে কার্যত ফলোৎপাদনে আমরা যতœশীল।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে প্রতিষ্ঠানের পরিধি। এই চত্বরে নির্মিত হচ্ছে বিরাট কলেবরের বহুতল ভবন। প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রসারিত করতে গিয়ে ২০১৪ সালে খোলা হয়েছে English Version । মাধ্যম ইংরেজি হওয়া সত্ত্বেও এ শাখাটি অভিভাবক মহলে আশাব্যঞ্জক সাড়া জাগিয়েছে। একাডেমিক দিক ছাড়াও উপভোগের সহশিক্ষাকার্যক্রম, যেমন বিতর্ক, স্কাউটিং, বিজ্ঞান চর্চা, নৃত্য সংগীত, চিত্রকলা, সাহিত্য চর্চা, ইংরেজি ভাষা চর্চা এসব দিকেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশ এগিয়ে রয়েছে। 

আমরা শিক্ষক। শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সমাজের সেবা করে যাচ্ছি। মূলত সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের পাশাপাশি কলেজ শিক্ষার সেবা দিতে ডেমরা রোড যাত্রাবাড়িতে আরেকটি কলেজ যার নাম ‘ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ’ গড়ে তুলেছি। এ কলেজও আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতার নিদর্শন।

আমাদের জীবন শিক্ষায় নিবেদিত। এই শিক্ষা সেবায় আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করি।

ধন্যবাদান্তে

. মাহবুবুর রহমান মোল্লা
প্রিন্সিপাল
সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ